ঈশান ইন্সটিটিউটের ইতিহাস

ফরিদপুর সদর উপজেলাধীন ১নং ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ভুবনেশ্বর নদীর উপকন্ঠে বাবু আশুতোষ চন্দ্র সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ১৯৬৮ সালে ‘আশুতোষ’ বিদ্যাপিঠ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনী কর্তৃক আশুতোষ চন্দ্র সরকার নির্মমভাবে নিহত হন। তাঁর অবর্তমানে কালের বিবর্তনে বিদ্যালয়টি বিলুপ্ত হয়। ফরিদপুর শহরের উপকন্ঠে স্থায়ী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ঐতিহ্যবাহী ঈশান ইনস্টিটিউশন যাহা “জমিদার রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকার” কর্তৃক ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর অত্যন্ত সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছিল। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক জনাব আ: মুয়ীদ চৌধুরী বিদ্যালয়টিকে প্যারামেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন জমিদার ঈশান পরিবারের একমাত্র উত্তরসূরী ‘বাবু খগেন্দ্রনাথ সরকার লক্ষণ বাবু’ এ ব্যাপারে ঘোর আপত্তি জানান। এরই ফলশ্রুতিতে জেলা প্রশাসক সাহেব তাঁর কার্যালয়ে বিষয়টি আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনান্তে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, ঈশান ইনস্টিউশনকে প্যারামেডিকেল কলেজে রূপান্তর যা বর্তমানে ফরিদপুর সরকারি মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট (ম্যাটস)নামে খ্যাত। অপর পক্ষে লক্ষণ বাবুর নিজ গ্রাম ঈশান গোপালপুরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক সাহেব কিছু নগদ অর্থ ও ঈশান উচ্চ বিদ্যালয়ের কিছু আসবাবপত্র প্রদান করেন। লক্ষণ বাবু বিদ্যালয়টি স্থাপনের জন্য নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দান করেন এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক কতিপয় ব্যক্তি বিদ্যালয় স্থাপনে সহযোগিতা করেন। এদের মধ্যে মরহুম তাঁরা মিয়া, জনাব আব্দুল হাকিম মিয়া, মরহুম মোকছেদুর রহমান প্রমুখ নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরবর্তীতে যাঁরা বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা করেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম জনাব নুরুজ্জামান চৌধুরী পঙ্কজ, সাবেক চেয়ারম্যান, ১ নং ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন ও জনাব খন্দকার আসাদুজ্জামান রেজা, সাবেক চেয়ারম্যান, ৬ নং মাচ্চর ইউনিয়ন। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠালগ্নে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন বাবু গৌর চন্দ্র বাগচী। তিনি বিদ্যালয়টির উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৮ সালে বাবু গৌর চন্দ্র বাগচী পদত্যাগ করিলে বাবু মলয় কুমার কুন্ডু প্রধান শিক্ষকের পদে যোগদান করেন। ১৯৭৮ সালের জুন মাসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদে অধিষ্ঠিত হন জনাব মরহুম রুস্তম আলী। তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, যার ফলশ্রুতিতে ০১/০১/১৯৮১ তারিখে বিদ্যালয়টি প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে এবং ১৯৮১ সালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমবার এস.এস.সি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়। ১৯৮৭ সালে জনাব রুস্তম আলী সাহেবের ইন্তেকালের পর জনাব মো: ইসাহাক মন্ডল প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সুষ্ঠুভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করেন। ১৯৯৭ সালে জনাব মো: ইসাহাক মন্ডল পদত্যাগ করলে , আমি এ.কে.এম ইউছুব আলী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হই এবং দায়িত্বভার গ্রহণ করি।

স্মরণ করছি তাঁদেরকে যাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ বিদ্যালয়টিকে ঐতিহ্যমন্ডিত করেছে। তাঁরা হলেন ‘বাবু মোহিত চন্দ্র বিশ্বাস, মরহুম গিয়াস উদ্দিন মিয়া, মো: আকমাল উদ্দিন বিশ্বাস, বাবু শুশীর রঞ্জন গুহ, মো: সামসুল হক, মো: গোলাম হোসেন, বাবু তারাপদ বিশ্বাস, বাবু গোপাল চন্দ্র দাস, মো: ওয়াজেদ উদ্দিন, মো: নুরুল ইসলাম, বাবু সমরেন্দ্রনাথ দাস মজুমদার, মো: আদেল ‍উদ্দিন মোল্যা, মো: আবু জাফর শেখ, মো: রফিকুল ইসলাম।

বিদ্যালয়টি উত্তরোত্তর উন্নতি লাভ করছে, অতীত ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ম্যানেজিং কমিটির সম্মানিত বর্তমান সভাপতি লিপিকা সরকার এর দায়িত্ব ও কর্তব্য বিদ্যালয়টিকে আরও উন্নতির শিখরে পদার্পণ করেছে। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৬ সালের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি লাভ করে এবং বর্তমানে শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চাসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে সুনামের সহিত এগিয়ে চলেছে। তাছাড়া জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা হয়, যা নিয়মিত ড্যাশ বোর্ডে রিপোর্ট করা হয়। শিক্ষাদান কার্যক্রম উন্নয়ন কর্মকান্ড ও বিভিন্ন বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব পালনে নিবেদিত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীবৃন্দ যৌথভাবে আমাকে যে সহযোগিতা করে আসছেন আমি তাদেরকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা না জানিয়ে পারছিনা। বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময় ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে এমনকি ছুটির দিনেও তারা স্বত:স্ফুর্তভাবে সাড়া দেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের দক্ষ ম্যানেজিং কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ অত্র বিদ্যালয়কে যথেষ্ট সাহায্য ও সহযোগিতা করে থাকেন যার দরুন আমি তাঁদের কাছে চিরঋণী।

বিদ্যালয় বার্ষিকী প্রকাশনায় যারা অক্লান্ত পরিশ্রম, সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং বাণী দিয়ে বার্ষিকীকে সমৃদ্ধ করেছেন তাঁদের কাছেও আমি ঋণী।

পরিশেষে, শিক্ষার্থীর অভিভাবকবৃন্দ ও বিদ্যালয়ের শুভাকাঙ্খীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ আপনাদের সন্তানকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠান, সহযোগিতা দেন যাতে এ বিদ্যালয়টি আদর্শ মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে যেতে পারে।

লিখেছেন: বর্তমান প্রধান শিক্ষক এ কে এম ইউসুব আলী